Header Ads

sylhettoday news top advertise

৫ বছরেও শেষ হয়নি ভবেরবাজার-গোয়ালাবাজার সড়কের কাজ

৫ বছরেও শেষ হয়নি জগন্নাথপুরের ভবেরবাজার-গোয়ালাবাজার সড়কের কাজ

৫ বছরেও জগন্নাথপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভবেরবাজার- নয়াবন্দর- গোয়ালাবাজার সড়কের কাজ শেষ হয়নি।

প্রথম দফায় নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বদল করে আরেকবার দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েও কাজ শেষ করা যায় নি। বুধবার (২১ আগস্ট) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই সড়কের কাজ শেষ না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জগন্নাথপুর উপজেলার ৩০ টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে।

এর আগেও, ৫ বছরের অধিক সময় থেকে ঐ সড়কে সংস্কার কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালের মে মাসে ৪ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৩ টাকার ব্যয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটারের এই সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ২০ ভাগ শেষ হওয়ার পর থেমে যায়।

সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে ১১ কিলোটিমার সড়কের কাজ করার কার্যাদেশ দেয় রাজধানী ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা কনস্ট্রাকসনকে। ৯ এপ্রিল এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজ শুরু করে। চার মাসের মধ্যে অর্থাৎ ৩০ আগস্ট কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ৪০ ভাগ কাজও শেষ হয় নি। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে বিল হয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ টাকা। ঈদের আগেই এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখে সব কিছু গুটিয়ে নেয়।

জগন্নাথপুরের ভবেরবাজার-নয়াবন্দর- গোয়ালাবাজার সড়কের পার্শ্ববর্তী গ্রাম কাতিয়া’র বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম বলেন, মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় এই সড়কে বার বারই টাকা বরাদ্দ হয়। ঠিকাদারের টালবাহনায় কাজ হয় না, এটা হতে পারে না। এর আগে এই সড়কের কাজের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, ভবেরবাজার-নয়াবন্দর- গোয়ালাবাজার সড়কের কাজ ৫ বছর আগে শুরু হয়েছিল। এখনো শেষ হয়নি। মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত সৈয়দপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীকে এবং সরকারকে বিব্রত করার জন্য একটি চক্র বারবারই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে তারা।

পদ্মা কন্সট্রাকসনের পরিচালক আব্দুস সালাম জানালেন, কাজ বন্ধ করা হয় নি। বর্ষা ও দুটি ঈদ মাঝখানে হওয়ায় কাজের গতি কমেছে। কাজ অবশ্যই শেষ করবো আমরা।

সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার ঢাকার পদ্মা কন্সট্রাকসনকে কাজ বাতিল করার কথা উল্লেখ করে মেইলে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন, পদ্মা কন্সট্রাকসনের চুক্তি বাতিলের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত. জগন্নাথপুর উপজেলার বড় দুটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভবেরবাজার-নয়াবন্দর ও গোয়ালাবাজার সড়ক। এই সড়ক দিয়ে কেবল এই দুই ইউনিয়নের মানুষ নয় জগন্নাথপুর পৌরসভা এলাকাসহ জগন্নাথপুরের অন্যান্য এলাকার মানুষও যাতায়াত করেন। এই অঞ্চলের মানুষ বিভাগীয় শহর সিলেট বা রাজধানী শহর ঢাকায় আসতে এই সড়কটিই ভরসা। ৫ বছরের অধিক সময় থেকে ঐ সড়কে সংস্কার কাজ না হওয়ায় ২০১৫ সালের মে মাসে প্রায় ১১ কিলোমিটারের এই সড়ক নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৩ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজিব রঞ্জন দাশ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয় ঐ মাসেরই ১৩ মে। সাইট বুঝিয়ে দেওয়া হয় ১৪ জুন। কাজ শুরু হয় ২৫ জুন। ঠিকাদারের পক্ষে ওখানে কাজ করান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ মাসুম আহমদ। কাজ শেষ করার তারিখ ছিল ২০১৬ সালের ১৩ জুন। অথচ ১৩ জুন পর্যন্ত সাব ঠিকাদার মাসুম কাজ করেন ৩৫ শতাংশ।

তাও আবার নিয়ম অনুযায়ী ৫০০ মিটার ভেঙে ভেঙে কাজ করার পর আরও ৫০০ মিটার ভাঙা এবং কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার মেশিনের টাকা বাঁচানোর জন্য অফিসকে না জানিয়ে পুরো সড়ক একসঙ্গে ভেঙে রাখেন।

এই অবস্থায় এই সড়কে চলাচলকারী দুই ইউনিয়নের দাওড়াই, পাঠকুড়া, জামালপুর, তিলক, শাহারপাড়া, মিলিক, কালাম্ভরপুর, শুক্লাম্ভরপুর, সুনাতনপুর, বুধরাইল, অনুচন্দ, ইসলামপুর সহ কমপক্ষে ৩০ টি গ্রামের মানুষ মহাবিপদে পড়েছেন। না চলছে যানবাহন, না পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারছেন তারা।

ওই সময় এলজিইডি’র পক্ষ থেকে বার বার তাগিদপত্র দিয়েও কাজ করানো যায় নি ঠিকাদারকে। পরে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর চুক্তি বাতিলের চিঠি দেওয়া হয় ঠিকাদারকে। পরে ঠিকাদার ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্টের শরনাপন্ন হয়ে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর রিট পিটিশন (নম্বর ১৪০৬৬/২০১৬) দায়ের করেন । আদালত ঐ আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ নভেম্বর ২০১৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন। ঐ সময় পর্যন্ত ঠিকাদার সড়কের ৫.৭ কিলোমিটার অংশের কাজ করান। অর্থাৎ মোট কাজের ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ করেন। এই কাজের বিপরীতে তিনি মোট বরাদ্দের ৫২ শতাংশ বিল এক কোটি ৯৭ লাখ ৯২ হাজার ৫৪২ টাকা গ্রহণ করেন। এরপর আবার মহামান্য হাইকোর্টে সময় বাড়ানোর রীট পিটিশন (নম্বর ১৪০৬৬/২০১৬) দায়ের করেন। আদালত এই পর্যায়ে পহেলা মার্চ ২০১৭ থেকে ৩০ মে ২০১৭ পর্যন্ত ৩ মাস সময় বাড়িয়ে দেন।

ওই সময়ে একদিনের জন্যও ঠিকাদারের লোকজন সাইটে যায়নি। শেষে আদালতের নির্দেশই ওই ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি। ওই দরপত্রে নতুন করে কাজ পায় ঢাকার পদ্মা কন্সট্রাকসন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ