Header Ads

sylhettoday news top advertise

জগন্নাথপুরে চুরির অভিযোগে রিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যা

জগন্নাথপুরে চুরির অভিযোগে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা

জগন্নাথপুর :: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক রিকশা চালককে তিনদিন ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আজ শনিবার সকালের দিকে নির্যাতনকারী সেকেল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করেছে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ।

নিহত রিকশা চালক জামিল হোসেন (৩৬) নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি থানার আছাদপুর (নোয়াপাড়া) গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত  হাবিবনগর গ্রামের আবদুস সামাদের কলোনীতে বসবাস করে আসছিলেন।

গ্রেফতারকৃত সেকেল মিয়া উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের এখলাছ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবনগর এলাকার বাসিন্দা রিকশা গ্যারেজের মালিক শাকিল আহমদ ওরফে সেকেল মিয়া নেত্রকোণা জেলার কালিয়াজুড়ি উপজেলার আসাদপুর গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে রিকশা চালক জামির হোসেন (৩৫)কে রিকশা চুরির অভিযোগে গত তিনদিন (১৫ আগষ্ট) আগে ধরে নিয়ে গিয়ে তাঁর বাড়িতে শিকল দিয়ে বেঁধে অমানুষিক ভাবে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে গত শুক্রবার দুপুরের দিকে রিকশা চালক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান শাকিল আহমদ। সেখান থেকে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলে কিছুক্ষণ পরে আবার তাকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফিরে আসে।  এ সময় কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

খবর পেয়ে শনিবার সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাশ, থানার এসআই লুৎফুর রহমান ও এসআই রাজিব রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ দল অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী সেকেল মিয়াকে গ্রেফতার করেন এবং রিকশা চালক জামিল হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় রিকশা চালকের স্ত্রী জামিনা বেগম বাদী হয়ে আজ বিকেলে  জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমান জানান,  অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা ঘটনার মূল হোতা গ্যারেজের মালিক শাকিল আহমদকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদ শেষে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের স্ত্রী জামিলা বেগম বলেন, মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার স্বামীকে শিকলে বেঁধে তিনদিন ধরে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।  আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ডাঃ নাজমুল শাহাদাত সিলেটটুডে ডটকমকে  বলেন, অসুস্থ অবস্থায় জামির হোসেনকে যখন স্বাস্থ্য নিয়ে আসার হয় তখন তার বুকে ব্যথা হচ্ছিল। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেটে রেফার করি। এসময় ওই ব্যক্তি কথাও বলেছেন। প্রায় দুই ঘন্টা পর আবার তাকে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে তখন আমরা তাকে মৃত ঘোষনা করি।

তিনি বলেন, ওই সময় রোগির সঙ্গে থাকা লোকজন জানান,  তারা মোটরসাইকেল দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

এবিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন সিলেট টুডে ডটকমকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শাকিল আহমদ ওরফে সেকেলকে প্রধান আসামীকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ