Header Ads

sylhettoday news top advertise

সিলেট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পীযূষ অস্ত্র-ইয়াবা বড়িসহ আটক

সিলেট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পীযূষ অস্ত্র-ইয়াবা বড়িসহ আটক

সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকা থেকে বুধবার  (১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯) সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পীযূষ (৪০) ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়িসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ৯ এর একটি বিশেষ দল।

গ্রেপ্তার হওয়া নেতা পীযূষ কান্তি দে জেলা শাখার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। সে শহরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ, মারধরসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সিলেট নগরীর ভাঙ্গাটিকর শেখঘাট এলাকার মৃত ননী গোপাল দে’র ছেলে পীযুষ কান্তি দে। র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া সেল থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার রাতে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল থেকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত সহযোগীরা হলেন- নগরীর মনিপুরী রাজবাড়ীর মৃত আশ্বিনী কুমার পালের ছেলে বাপ্পা পাল (৪২), রামের দিঘীর পারের মৃত পরেশ রায়ের ছেলে মন্টি রায় (৪২) ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানীখাইলের রুস্তম খানের ছেলে রায়হান খান (২৫)।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নগরীর মির্জাজাঙ্গালে বুধবার রাতে পীযূষের অফিসে অভিযান চালায় র‍্যাব-৯ এর একটি বিশেষ দল। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পীযূষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখল,  মারধরসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিলেটের একাধিক থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-০৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।

নগরীর জিন্দাবাজার-লামাবাজার সড়কের মির্জাজাঙ্গালে ‘আস্তানা’ গড়ে তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিন্দাবাজারে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে পীযূষের ছবি বিভিন্ন সংবাদপত্রে ছাপা হয়, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পরের বছর সেপ্টেম্বরে নগরীর তালতলা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ঢুকে চাঁদা না পেয়ে কক্ষ দখল করে রাখায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বরে অপহরণের অভিযোগে পীযুষের বিরুদ্ধে সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা একটি মামলা হয়। একই দিনে চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা (নং-২৫) হয়েছিল কোতোয়ালী থানায়।

গেল বছরের (২০১৮) ফেব্রুয়ারিতে ফের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে সমালোচিত হন পীযুষ কান্তি দে।

চলতি বছরের (২০১৯) ২২ জানুয়ারি আরো একবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পিযুষ কান্তি দে। এরপর ছাড়া পেয়ে ফের নানা কর্মকাণ্ডে নগরজুড়ে আলোচিত ছিলেন তিনি।

গত ৬ অগাস্ট তিন লন্ডন প্রবাসীকে মারধর করে পীযূষ অনুসারীরা। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জিন্দাবাজারে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের সামনে তিন প্রবাসীর উপর হামলা চালায় পীযূষ অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হন তারা। এ সময় তাদের প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় ৭ আগস্ট আহতদের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের আস্তানায় অনেকদিন যাতায়াত বন্ধ রেখেছিলেন পীযূষ। বুধবার সেখানে ফিরেই তিনি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে র‌্যাবের হাতে আটক হন। গতকালের আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন পীযূষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ