Header Ads

সিলেট টুডে: আমাদের জন্য লিখুন

ওসমানীর ৫ নার্স ও ১ ওয়ার্ডবয় করোনা আক্রান্ত

ওসমানীর ৫ নার্স ও ১ ওয়ার্ডবয় করোনা আক্রান্ত

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঁচ জন নার্স ও একজন ওয়ার্ডবয় এর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আজ শুক্রবার  (১৫ মে) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর ফলাফলে তাদের করোনা পজিটিভ আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইউনুছুর রহমান।

জানা গেছে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের ল্যাবে শুক্রবার (১৫ মে) ৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই ১৩ জনের মধ্যে ওসমানী মেডিকেলের পাঁচ নার্স ও এক ওয়ার্ডবয়ও আছেন। তারা হাসপাতালের আইসিইউ-তে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া প্রখ্যাত চিকিৎসক মীর মাহবুব আলমের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

ডা. মীর মাহবুব আলম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল। তবে চার বার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলেও প্রতিবারই তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। মঙ্গলবার (১২ মে) ভোরে তিনি মারা গেলে ওইদিন সকালেই সিলেটের হজরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ডা. মীর মাহবুব আলমের মৃত্যুর দুইদিন পর, শুক্রবার (১৫ মে) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কর্মরত ৫ সিনিয়র স্টাফ নার্স করোনায় আক্রান্ত হলেন।

এরকম অবস্থায় মীর মাহবুবের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট (প্রতিবেদন বা ফলাফল) নিয়ে সচেতনমহলে প্রশ্ন ওঠছে।

তারা বলছেন, মীর মাহবুবের শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল বলেই তাঁর চার বার করোনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু করোনার উপসর্গ কারো মধ্যে থাকলে, তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করার কথা। তাহলে কেন তাকে ওসমানীর আইসিইউতে ভর্তি করা হলো? মীর মাহবুবের শরীরে করোনার শক্ত উপসর্গ ছিল বলেই চারবার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। অন্যথায় তো এভাবে বার বার পরীক্ষা করার কথা না।

ডা. মাহবুবের প্রসঙ্গে ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইউনুছুর রহমান বলেন, সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডা. মীর মাহবুবুল আলম ভর্তি ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরীক্ষার পরে তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাঁর দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত না হওয়ায় তাকে ওসমানীতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁকে দেখার পর আবারো করোনা পরীক্ষার জন্য বললে আরও তিনবার তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় এবং প্রত্যেক বারই তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

তবে ওসমানী হাসপাতালে কর্মরত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স এ বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। তারা জানান, মীর মাহবুবকে ওসমানীর আইসিইউতে ভর্তি করে গোটা আইসিইউ ব্যবস্থাকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। যার ফলস্বরূপ ৫ জন নার্স ও ১ জন ওয়ার্ডবয় আক্রান্ত হলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য